নবজাতকের জন্য করনীয়

একটি শিশু আগমনের অপেক্ষায় থাকে মা বাবার সাথে আরও দুইটি পরিবার। দাদার বাড়ি, নানার বাড়ি, খালা, মামা, চাচা, ফুফু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে। শিশু জন্মের পর থেকে ০-২৮ দিন পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে নবজাতক।। নবজাতক কে যখন হাসপাতাল থেকে আপনার কাছে দেয়া হয়, তখন থেকেই আপনার দায়িত্ব শুরু হয়ে যায়। বাবুকে হাতে পাওয়া মাত্রই আপনার কাজ হচ্ছে নবজাতককে বুকের শাল দুধ দেয়া। আগের যুগে ওই দুধ ফেলে দেয়া হত কিন্তু ওই দুধে রয়েছে অ্যান্টিবডি সহ ভিটামিন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। বার বার শিশুকে মায়ের বুকের দুধ দিবেন। কখনো মায়ের বুকে দুধ নামতে ২-৩ দিন কারো ৫-৬ দিন ও লাগে। তবে বার বার বাচ্চাকে দুধ টানাতে হবে। আর দুধ যদি একেবারেই না পায় কৌটার দুধ খাওয়াতে পারেন।। সাথে মায়ের দুধ ঘন ঘন টানাতে হবে।  দুধ নামামাত্র বাইরের দুধ বন্ধ করে দিতে হবে।
কৌটার দুধ সকল ডঃ সাজেস্ট করেন না।। কিন্তু কিছু ডঃ এর পরামর্শ মতে দুধ একেবারেই না পেলে শিশুকে বাইরের দুধ না হয় অন্য মা এর দুধ দেয়া যায়।কৌটার দুধ দেয়া না দেয়া আপনার উপর ও নির্ভর করে।। আপনি যদি না চান তবে দিবেন না। তবে এই নিয়ে বাকবিতন্ডায় না যাওয়াই উত্তম। কেননা এই দুধ শুধুমাত্র বুকের দুধ নামতে দেরি করলেই অল্প হারে দেয়ার কথা বলা হয়েছে । নইলে বাচ্চার গ্লুকোজ অনেক সময় কমে যায় যদি সে জি ডি এম  মা এর বাচ্চা হয়ে থাকে।
নবজাতকের পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই প্রয়োজন।
শিশুকে অবশ্যই হাত ধুয়ে পরিস্কার হয়ে কোলে নিতে হবে। শিশুর পায়খানা সাথে সাথে হালকা গরম পানি বা ওয়াইপস দিয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে।।শুকে ডায়পার পরানো উচিত। কেননা মা একটি ধকল থেকে উঠেছে,তার ও আরাম এর প্রয়োজন আছে। আর বাচ্চা বার বার প্রস্রাব করে। এতে মা ও বাচ্চার দুইজনেরই ঘুম এর ব্যঘাত ঘটে। তবে ডায়পার খুলে পরিস্কার করে কিছুক্ষন বাতাস লাগাতে হবে। নিয়ম মেনে চললে কোন ক্ষতি হবারই কথা নয়।শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পর অবশ্যই ঢেঁকুর তুলতে হবে।
নবজাতক ১৬-১৭ ঘন্টা ঘুমায়। ১মাস বয়স হলে ১৪-১৫ ঘন্টা ঘুমায়, ৩ মাস হলে ১৪-১৬ ঘন্টা, ৬ মাস হলে ১৪ ঘন্টা। তবে অনেক শিশু নিরবিচ্ছিন্নভাবে ঘুমায় না। কিন্তু কিছু শিশু থাকে আলাদা। যারা ঘুমের চেয়ে জেগে থাকে বেশি। কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুম দরকার।
১-৪ মাসের শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য।দুধ খাওয়ালেই বা একটু দোলালেই সে ঘুমিয়ে যাবে।
৪-৬ মাস বয়সে শিশুরা রাতের বেলায় মূলত বেশি ঘুমায়। দিনে তখন ৩ ঘন্টা ঘুম যথেষ্ট। এই বয়সের শিশুরা সাধারণত রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমায়।
কলিক বেবিরা ব্যতিক্রম
 জন্মের পর অন্যান্য সবকিছুর পাশাপাশি নবজাতকের ঘুম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য এই সময়টাতে তার সঠিক পরিমাণ ঘুমানোর দিকে খেয়াল রাখুন।এগুলোই হল প্রাথমিক পরিচর্যা।।  পরবর্তী টপিক গুলোতে আরো আলোচনা করা হবে । 

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন