শিশুর কৃমি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?

শিশুর-কৃমি-থেকে-মুক্তি-পাবেন

কৃমি বাড়ন্ত শিশুদের এক মহাসমস্যা।
শিশু বাড়ন্ত সময়ে চঞ্চল হয়ে থাকে।।
ওর দুষ্টুমি এবং চঞ্চলতার জন্য কৃমির দ্বারা আক্রান্তের স্বীকার হয়।।।
বাড়ন্ত বয়সের শিশুরা কৃমির দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়।। ফলে ওদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে।।  কৃমির দ্বারা আক্রান্তের স্বীকার শিশু অহেতুক খিটমিট করবে।।। খাবারে অনীহা হবে।।।

আসুন আমরা জেনে নেই কৃমি কি কারনে হতে পারে এবং কিভাবে শিশুর কৃমি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

কি কারনে  কৃমি হতে পারে??
👉 প্রধানত অপরিস্কার জায়গা থেকে কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।।
👉 ইদানিং বাচ্চারা স্লাইম, ডো দিয়ে খেলে। এগুলো নরম বিধায় ওদের নখ এ ঢুকে যায়।  নখ পরিস্কার না করলে কৃমি হতে পারে।।
👉 নোংরা জায়গায় হয়তো খালি পায়ে এইদিক ওদিক হাটঁছে শিশু।এটি অন্যতম কারন কৃমি হওয়ার।
👉 বাথরুমে যাচ্ছে কিন্তু হাত পা সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার করছে না শিশু।।
👉 হাতের নখ বড় হয়ে গিয়েছে আপনার বাচ্চার  যা আপনি খেয়াল করেন নি।
👉 বাচ্চারা বিভিন্ন রং🎨 নিয়ে রং করে।।হাত পরিস্কার  না করলে এ থেকে কৃমি হতে পারে।।।
👉 দাতঁ দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস আছে আপনার বাচ্চার?? তবে কৃমি হবেই মোটামুটি বলাই যায়।।
👉 আপনার রান্নার সবজি বা ফল মূল যদি না ধুয়ে রান্না করেন বা খান তবে আপনার বাচ্চা বা আপনি ও কৃমির স্বীকার হতে পারেন।
👉নিয়মিত কৃমির ওষুধ না খাওয়ানো হলে।।।

আসুন জেনে নেই কৃমি হয়েছে বোঝার উপায়।কিভাবে বুঝবেন শিশুর কৃমি হয়েছে তা নিচের আলোচনা থেকে ধারনা পাবেন।।

কিভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চার কৃমি হয়েছেঃ
★★  হঠাৎ  ছোট্টমনি পেটের ব্যাথায় আক্রান্ত বা খাবার এ অরুচি?? পেট ও ফুলে থাকে? তাহলে বুঝা যাচ্ছে আপনার আদরের সোনামনির কৃমি হয়েছে।।
★★ বাচ্চার ওজন বাড়ে না,খেতে চায় না তবে মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায় কৃমি হয়েছে আপনার শিশুর।।
★★ বাচ্চার মেজাজ খিটমিটিয়ে থাকে তবে কৃমি হয়েছে কিনা পরিক্ষা করতে হবে।
★★ ডায়রিয়া হচ্ছে ঘন ঘন তাহলে  কৃমির সম্ভাবনা তিব্র।।
★★ আপনি যদি বুঝতে না পারেন যে বাচ্চার কৃমি হয়েছে তবে শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কারন আয়রন ও রক্তের ঘাটতি ঘটতে পারে। এনিমিয়া সৃষ্টি করে কৃমি।।
★★ মুখ দিয়ে লালা ঝরা কৃমির লক্ষন।।তাই লালা পড়লে এখনই বিশেষজ্ঞ এর শরনাপন্ন হউন কৃমি তাড়াতে।
★★ বাচ্চার অহেতুক থুথু ফেলা ও কৃমির লক্ষন।।
★★ মলদ্বারে চুলকানি,অস্বস্তি বা গন্ধযুক্ত মল কৃমির লক্ষন।।

কৃমি তাড়াতে কি করা যায় আসুন দেখে নেই।।

👉👉কৃমি প্রতিরোধে কি করবেন?
📌 সবার প্রথমে ডঃ এর পরামর্শে ওষুধ খাওয়ান।

📌শিশুর বয়স ১৮ মাস থেকে ২বছর এর বেশি হলে ছয় মাস অন্তর অন্তর কৃমির ওষুধ খাওয়া ভাল।

📌 বাচ্চার বয়স ১২ মাসের উপরে হলে কিছু হারবাল ব্যবস্থা করতে পারেন।
📌 শিশুকে নিম পাতার রস বা নিম পাতার পেস্ট মধুর সাথে মিশিয়ে একদম অল্প পরিমানে শিশুকে দিতে পারে
📌 কাচাঁ হলুদ একদম অল্প পরিমানের গরম পানির সাথে বা দুধ এর সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।।
📌গাজর বা করলা খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন শিশুকে।।এর উপাদানসমূহ শিশুর পেটের কৃমি তাড়াতে ভাল কাজ করে।
📌 লং রস করে মধু দিয়ে খাওয়াতে পারেন।।
কোনটি তে আপনার শিশুর কাজ হবে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।।

📌 জোয়াইন খেলে শিশুর কৃমির সাথে গ্যাস রিলিফ পাবে।।জোয়াইন ৩-৪টি দানা পানি তে সিদ্ধ করে ওই পানি ঠান্ডা করে ড্রপার এ করে দিতেন পারেন।
📌 শিশু বাইরে খেলতে গেলে অবশ্যই বাসায় ফিরলে হাত পা ধোয়ার অভ্যাস করবেন।।

আজকের আলোচনাটি শিশুর কৃমি সম্পর্কিত, শিশুর কৃমি থেকে মুক্তি পাবেন!!!
মা হিসেবে আমাদের তথ্য যদি আপনার উপকারে আসে তবে অবশ্যই অন্য মা এর সাথে শেয়ার করবেন।।।

আরও পড়ুন:
নবজাতকের জন্য করনীয়
মোবাইল স্ক্রিনিং বা গেজেট আসক্তিতে বাচ্চাদের কিভাবে সামলাবেন?
আবহাওয়া অনুযায়ী শিশুর পোশাক
শিশুরা কেন সব কিছু মুখে দেয় ? সতর্কতা ও করনীয়

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন

Share via
error: Alert: PawkyThings.com এর লেখা ও ছবি কপি করা নিষেধ!
Send this to a friend