করোনার ঝুঁকি এড়াতে মা,গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের জন্য করনীয়

করোনার ঝুঁকি

করোনা থেকে মা, গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুরা কিভাবে ভাল থাকবেন?? করোনা এখনকার সময়ের আতঙ্ক এর নাম। আর সবচেয়ে বেশি করোনার ঝুঁকি তে মা ও গর্ভবতী মহিলারা।
পুরো পৃথিবী এখন অস্থির একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।আমরা সবাই আতংকিত।

করোনা কি?
করোনা হলো ভাইরাস সংক্রমিত একটি রোগ যা কোভিড ১৯ নামে পরিচিত হয়েছে।
চীনের উহান শহর থেকে শুরু করে বিশ্বের ১৯৭ টি দেশে ছড়িয়েছে।। মানুষের দেহে এসে ভাইরাসের রূপ বদলাচ্ছে।।বর্তমানে এর মৃত্যুহার অনেক বেশি।
কোন রোগের মৃত্যুহার ২% মানে অনেক সেখানে এই রোগের মৃত্যুহার ৫-৭% পৌছেঁছে।।
উন্নত দেশ ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ফ্রান্স মানুষ মৃত্যুর লাগাম টানতে পারছে না সেখানে আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে।

লক্ষনঃ
করোনা ভাইরাসের লক্ষন হলো
★★ তিব্র জ্বর(১০৩°)
★★ শুকনো কাশি
★★ শ্বাসকষ্ট
★★ গলা ব্যাথা
★★ ক্ষুধাহীনতা
★★ মাংসপেশিতে ব্যাথা
★★ ডায়রিয়া হতে পারে
★★ নিউমনিয়া
★★ বমি ভাব

করোনা এড়াতে মা,গর্ভবতী মহিলা,শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও করোনার জন্য খাদ্য নির্বাচনঃ
করোনার ঝুঁকি দূরে থাকতে ও ইম্যিুউনিটি বাড়াতে মা,গর্ভবতী,শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষের খাওয়া উচিত আমলকি, জামরুল, কাঁচামরিচ, পেয়ারা,বেল পেপার, কমলা, স্ট্রবেরি,পেপে, ব্রোকলী,সবুজ শাকসবজি, টমেটো, শিম, বাদাম, মটর অর্থাৎ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার। চাইলে দিনে একটা সিভিট ও খেতে পারেন।

★★ করোনা থেকে গর্ভবতী মা, শিশুদের মা এবং শিশুদের ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, সেলিয়াম খাবার খাওয়া উচিত।

★★ ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার হচ্ছে-মাশরুম,ডিমের কুসুম,কমলার রস,সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ওমেগা ৩, মাছের তেল ইত্যাদি।।

সেলিনিয়াম এর কাজ কি?
অজ্ঞানহীনতা বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া থেকে যখন ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দেয় তখন সেলেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

★★ সেলেনিয়াম যুক্ত খাবারগুলো হলো: সামুদ্রিক মাছ,যেমন: টুনা, স্যালমন, চিকেন, টফু, বিভিন্ন বাদাম,পাস্তা, মাশরুম, কলা, রসুন, চিংড়ি ইত্যাদি।

করোনা থেকে সচেতন থাকতে মা,গর্ভবতী মহিলা, শিশু,কিশোর ও সাধারণ মানুষের করণীয়ঃ
করোনা থেকে সচেতন থাকতে মা,গর্ভবতী মহিলা, শিশু,কিশোর ও সাধারণ মানুষের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।

📌 যেহেতু ঠান্ডা খাবার থেকে হাচিঁ কাশি সর্দি হয় তাই এগুলো থেকে দূরে থাকুন, ফ্রিজে রাখা খাবার, আইসক্রিম, ঠান্ডা জুস, বরফ এই জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
📌 সবার জন্য সূর্যের আলো উপকার।। সকালের আলোতে বসুন।।
📌 প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে লেবু স্লাইস করে,হালকা কুসুম পানিতে দিয়ে পান করুন। এটি শরিরের জন্য ভাল।। (গ্যাস এর সমস্যা থাকলে একচিমটি লবন দিয়ে নিবেন)
📌 প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন যদি সম্ভব হয় হালকা কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন।
কেননা এটি আপনার শরীর এর জন্য উপকারী।।
📌 ডিম ও মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো করে সিদ্ধ করে খেতে হবে।আধা সিদ্ধ ডিম, মাংস বা যেকোন খাবার খাওয়া থেকে আপাতত বিরত থাকুন।

  • হোমমেড খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন
  • বাইরের খাবার পরিহার করুন
  • নিজেকে পরিস্কার রাখার চেস্টা করুন।

মানসিক অস্থিরতা দূরীকরণে করনীয়ঃ
করোনা ভাইরাস এর জন্য মানুষকে চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুদের মা বা শিশু-কিশোররা মানসিক চাপ ও অস্থিরতায় ভুগছে। করোনার ঝুঁকি থেকে মা, গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের কিভাবে মানসিকভাবে ভাল রাখা যায় তা জানতে হবে। কেননা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিকতা হারাতে থাকে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।
রিলাক্সেশন থেরাপির মাধ্যমে আপনি চাপ,উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।ভালো ঘুম এর কৌশল হচ্ছে রিলাক্সেশন থেরাপি।
সাইকোথেরাপি কৌশলগুলোর মাঝে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হলো রিলাক্সেশন থেরাপি।মানুষ যখন জেগে থাকে,তখন তার মনে আকাশ-পাতাল ভাবনা ঘুরতে থাকে।এমনকি ঘুমের সময়ও মানুষের মন সক্রিয় থাকে।দেখা যায় প্রায়ই বাচ্চারা ঘুমের মাঝে চিৎকার করে।।। গর্ভবতী মায়েরা আরও বেশি আতংকিত থাকেন।।
রিলাক্সেশন থেরাপি শরীর এবং মন দুটিকেই শান্ত করে।রিলাক্সেশন থেরাপি উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি পেতে,মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। ক্লান্তি দূরীকরণ,দুঃস্বপ্ন, বিষন্নতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।

যেভাবে করতে পারেন-> ১ থেকে ৫ গুনতে গুনতে শ্বাস নিন এবং আবার ১ থেকে ১০ গুনতে গুনতে শ্বাস ফেলুন। এভাবে কয়েকবার নিঃশ্বাস নিন এবং নিঃশ্বাস ফেলুন।
এভাবে আয়ত্তে আনুন।করোনার আতংক থেকে মুক্তি গর্ভবতী,মা এবং শিশু-কিশোর অথবা স্বাভাবিক সবাই এটি করতে পারেন। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। ব্যায়াম করুন।

প্রতিরোধ:
১. যেহেতু এটি air doplet এর মাঝে ছড়ায় তাই ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন।চোখে চশমা ব্যবহার করুন।
২. গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। যেখানে সেখানে থুথু ফেলবেন না।
৩. বিনা কারনে নাকে চোখে মুখে হাত দিবেন না।।
ময়লা হাত দিয়ে মুখ নাক ধরবেন না। হাত মিলানো বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
৪. ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ অথবা সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। বাইরে থেকে ফিরে ময়লা কাপড় পরিস্কার করে ফেলুন।
৫. গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা অবস্থার ওপর নির্ভর করে ৭- ৯ দিন ধাতব পদার্থ, কাঁচ ও প্লাস্টিকের উপর বেঁচে থাকতে পারে।
মোবাইলে এই ভাইরাস ৯ দিন বেঁচে থাকতে পারে। গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির ইফেক্টিয়াস ডিজিস অ্যান্ড ইম্যিউনোলোজি স্পেশালিস্ট অধ্যাপক নাইজেল ম্যাকমিলা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন-”করোনাভাইরাস যে কোনো পৃষ্ঠের উপরে বেঁচে থাকতে পারে এবং এটি যতো বেশি আর্দ্র হয়, ততো বেশি দিন সেখানে বেঁচে থাকতে পারে’
তাই মোবাইল ফোন যেখানে সেখানে ফেলে রাখবেন না।ফোনে হাত দেওয়ার আগে স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার করুন।
সূত্র: মেট্রো।
৭. জুতার মধ্যে পাঁচ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনা ভাইরাস। সংক্রমণ রোগের গবেষকরা বলছেন-জুতার তলায় পাঁচ দিনের মতো করোনা ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে।
তাই ঘরে ফিরে জুতা ও জীবানুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।।
৮. ঘরে প্রবেশের দরজার হ্যান্ডল, টিভির রিমোট, সিড়িঁর রেলিং জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার করুন।
৯. টাকার লেনদেন শেষ করে অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।।
১০. আপনি যদি বাইরে থেকে কিছু সঙ্গে নিয়ে এসে থাকেন তবে তা জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে পরিষ্কার করে নিন। তার আগে হাতে গ্লাভস পরে নিন।
১১. ঘরের বয়স্কদের সাবধানে রাখুন।যাদের ডায়াবেটিস সমস্যা,ধুমপায়ী,কিডনি,হৃদযন্ত্র কিংবা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
১২. প্রবাসী কেউ আসলে ১৪ দিন আলাদা করে থাখতে হবে যাতে অন্যদের সংস্পর্শে না যেতে পারে। ঘরের সদস্যদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
১৩. বাচ্চাদের বার বার হাত ধোয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১৪. গর্ভবতী মায়েরা যতদুর সম্ভব পরিচ্ছন্নতা পালন করুন। গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে বেশিরভাগের হালকা ধরনের ফ্লু লক্ষন থাকে।নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর লক্ষণগুলি দেখা যায় না।তাই হবু মা এর একটু নিশ্চিত ও সচেতন থাকুন।

১৫.কর্মজীবী গর্ভবতী মা অবশ্যই বাইরে বা কর্মস্থানে মাস্ক বা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

১৬.যদি বাচ্চাকে স্তন্যপান করান তবে
★ আপনার শিশুকে স্পর্শ করা এবং ব্রেস্ট পাম্প বা বোতলগুলি স্পর্শ করার আগে আপনার হাত ভালভাবে ধুয়ে নিন।
★ স্তন্যপান করানোর সময় ফেস মাস্ক পরুন যদি সর্দি কাশি থাকে বা হাচিঁ এড়াতে।।
আপনার শিশু স্তন্যপান করার সময় তার উপরে কাশি বা হাঁচি দেওয়া এড়ানোর চেষ্টা করুন।

জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা হলে যে সবাই নভেল করোনা-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে,সেটা ভাবা যাবে না। এই সময়ে অনেক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ থাকে।
তাই গর্ভবতী মা ও শিশুদের মায়েরা সর্দি কাশি হলে ভয় না পেয়ে ডাক্তার দেখান।কারন করোনায় ৮০% মানুষই সুস্থ হচ্ছে।তাই ভয়ের কারন নাই।শুধু আপনার আর চারপাশের সতর্কতাই পারে এই ভাইরাস ঠেকাতে।

আশা করি আপনারা সঠিক তথ্য পেয়েছেন করোনার ঝুঁকি সম্পর্ক কে।।। ভাল লাগলে অন্য মা এর সাথে শেয়ার করে উপকার করবেন।।।

আরও পড়ুন:
গর্ভাবতী মা এর অধিক গরম লাগার কারন ও করনীয়
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর রোজায় করনীয়
গর্ভধারণে বিলম্বিত? কোন ভুল করছেন না তো?
গর্ভকালীন ডায়বেটিস এ মা এর করণীয়
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে করনীয়

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন

Share via
error: Alert: PawkyThings.com এর লেখা ও ছবি কপি করা নিষেধ!
Send this to a friend