গর্ভাবস্থার ২য় সপ্তাহ । সপ্তাহ অনুযায়ী

সপ্তাহ-অনুযায়ী-গর্ভাবস্থা-গর্ভাবস্থার-২য়-সপ্তাহ

গর্ভাবস্থার ২য় সপ্তাহ নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।। গর্ভবতী মা কে একটি সুনির্দিষ্ট পথ দেখানো আমাদের Pawkythings.com এর উদ্দেশ্য।

যেহেতু শেষ মাসিক চক্রের প্রথম দিন থেকে গর্ভাবস্থার দিন গননা করা হয় সেহেতু আপনি গর্ভাবস্থার ২য় সপ্তাহ  এ প্রবেশ করেছেন কিনা তা এখনো বুঝতে পারবেন না।। কেননা আপনার শরীর এখন ও তেমন কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। এ সময়ে আপনার শরীরে কিভাবে ভ্রূনটি বেড়ে উঠছে আসুন তা জেনে নেই।

ভ্রূন এর বয়স ও অবস্থাঃ
গর্ভাবস্থার ২য় সপ্তাহ ওভুলেশনের জন্য উপযুক্ত সময়। ওভুলেশন সব মা এর ক্ষেত্রে এক হয় না।। ৯-২৮ দিন এর মাসিক চক্রের যেকোন দিন হতে পারে ওভুলেশন এর সময়। দ্বিতীয় সপ্তাহ এর শুরুতে আপনার শরীর ফলিকল সিমুলেশন ( Follicle Stimulation Hormone) 

হরমোন তৈরি করে।। এই হরমোনটি প্রভাবশালী ফলিকলকে পরিপক্ক করতে এবং ভাঙনে সাহায্য করার জন্য দায়ী । একটি ভাঙা ফলিকলকে করপাস ল্যুটিম বলা হয়। এটি শরীর এর হরমোন এস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টোরন  (Estrogen and Progesterone) উৎপাদন করে যা শরীর এর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে এবং শরীরকে প্রস্তুত করছে যার কারনে এই সময়টাতে জরায়ু আবরনীগুলো যথেষ্ট পুরু হয়ে গড়ে উঠছে।। ফলিকল থেকে ছেড়ে আসা ডিম্বানু ডিম্বাশয়ে পরিনত হয়ে উঠছে। এই সময়টিতে মা এর একটি ছেড়ে দেয়া ডিম্বানু যা একটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। নিষিক্ত হওয়ার জন্য ফেলোপিয়ান টিউবে চলে আসে ডিম্বাণু।। ওভুলেশন এর পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় যদি প্রায় ২৫০ মিলিয়ন শক্রানু এর মাঝে কোন একটি শুক্রানু যদি ফেলেপিয়ান টিউবে ভেসে থাকা ডিম্বানুর মেমব্রেন ভেদ করে ভিতরে যেতে পারে তাহলেই ডিম্বাণু টি নিষিক্ত হবে।। কয়েক মিলিয়ন শক্রানুর মাঝে মাত্র কয়েকশত শুক্রানু ফেলোপিয়ান টিউবে যেতে পারে। এবং এর মাঝে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল একটি শুক্রানু ডিম্বানুর মেমব্রেন ভেদ করতে পারে। এই ডিম্বানু শুক্রানুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (Zygote) তৈরী করে।  ৪৬ জোড়া ক্রোমোসোমের ভেতর X আর Y ক্রোমোসোম সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারনে ভূমিকা পালন করে।।
পরবর্তী ৩ থেকে ৪ দিনে, জাইগোট কোষে বিভক্ত হয় এবং যখন এটি গর্ভে পৌঁছায়, তখন এটিকে মোরলা (Morula) বলা হয় । কোষের একটি ছোট বল মোরুলা। ডিম্বানু জরায়ুতে প্রবেশ করার পর তাকে ব্লাস্টোসিস (Blastocyst) বলে। এটি জরায়ুর দেয়ালে বসে সেখানে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে বিভিন্ন সপ্তহে মানব শিশুর আকৃতি পাবে।
ভ্রুণের (Fetus) জন্য গর্ভাবস্থার ২য় সপ্তাহ টা অনেক গুরুত্বপূর্ন। এসময় ভ্রুণের আকার থাকে খুব ছোট। ০.১ থেকে ০.২ মিলিমিটার লম্বা যা খালি চোখে দেখা যাবে না।
দ্বিতীয় সপ্তাহে ভ্রুণ দুই ভাগে ভাগ হয়।
ভিতরে ভ্রুন এবং বাইরে ইয়ক স্যাক (Yolk Sac) নামক একটি আবরন থাকে। মাঝের ফাঁকা জায়গাটিকে বলা হয় এমনিয়টিক গহ্বর। গর্ভফুল বা Placenta পুরোপুরি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ক স্যাক (Yolk Sac) বাচ্চার শরীরে পুষ্টির যোগান দেয় এবং তাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

গর্ভধারণ এর দ্বিতীয় সপ্তাহের লক্ষনঃ
দ্বিতীয় সপ্তাহে আপনি গর্ভবতী হননি, এই মুহূর্তে  আপনাকে ওভুলেশন চিহ্নিত করতে হবে।। কি কি বিষয় দেখে বুঝবেন আপনি ওভুলেশন এর জন্য প্রস্তুত তা নিচে দেয়া হলঃ

  • ব্যাসাল বডি টেম্পেরেচার(BBT) বা তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ আপনার শরীর এর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে যখন আপনার ওভুলেশন হবে। এটি স্বাভাবিক এর চেয়ে বেড়ে যাবে।। তাই আপনার শরীরের টেম্পেরেচার এর প্রতি লক্ষ্য রাখুন।   
  • কড়া বা তিব্র ঘ্রান এর অনুভূতিঃ ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফুটন এর জন্য মা তিব্র ঘ্রান অনুভব করে থাকেন।। সবাই নয় তবে কিছু কিছু মায়েরা গন্ধপ্রবন হয়ে উঠতে পারেন।
  • সহবাসের তিব্র ইচ্ছাঃ গর্ভাবস্থার ২য় সপ্তাহে যেহেতু ওভুলেশন হয়ে থাকে তাই মা এর সহবাসের তিব্র ইচ্ছা হয়ে থাকে।। এই সময়ে সংগীর প্রতি আকৃষ্টতা বৃদ্ধি পায়।
  • Pelvic Region এ ব্যথাঃ মা এই সময়ে Pelvic Region এ ব্যথা অনুভূত হবে। এটি মা এর কোমর এর একপাশে বা মাঝে ব্যথা অনুভূত হয়। এটিকে Mittelschmerz বলা হয়।।
  • সার্ভিকাল মিউকাস বা ডিসচার্জ হবেঃ গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় সপ্তাহে মা এর ওভুলেশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।।।এই সময়ে মা এর Cervical Mucas ba Vaginal Discharge হবে।।। এটি দেখতে অনেকটা ডিম এর সাদা অংশের মত, থকথকে, আঠালো।।।     
  • জরায়ুমখে পরিবর্তনঃ জরায়ুমুখে পরিবর্তন গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় সপ্তাহে পরিলক্ষিত হয়।। এইসময়ে জরায়ুমখ নরম, খোলা ও আদ্র অবস্থায় থাকে।


গর্ভাবস্থায় মা এর করনীয়ঃ
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় অবস্থায় যেহেতু মা গর্ভধারণ এর প্রস্তুতি নিয়েছেন তাই এই সপ্তাহে মা কিছু ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন।

  1. স্বাস্থ্যকর খাবার খান।।। হেলদি লাইস্টাইল মেনে চলুন।
  2. ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন। কম কিংবা বেশী ওজন কোনটিই প্রেগন্যান্সীর জন্য মঙ্গল নয়।
  3. শারীরিকভাবে এক্টিভ থাকুন।। শুয়ে বসে না থেকে হালকা ব্যায়াম বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাপন করুন।  
  4. মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। দুশ্চিন্তা করবেন না বা অঅবসাদগ্রস্ত হবেন না।
  5. ফলিক এসিড সমৃদ্ধ প্রি-ন্যাটাল মাল্টিভিটামিন খান।
  6. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।।  ভারি কাজ এড়িয়ে চলুন।। এখনও জরায়ুতে ভ্রুন টি জোরালো ভাবে স্থায়ী হয়নি তাই সাবধানতা অবলম্বন করুন।    
  7.  রক্ত পরিক্ষা করে নিতে পারেন। আপনার ও আপনার সঙ্গীর কোন রক্তজনিত সমস্যা বা থায়রয়েড, ডায়বেটিস আছে কিনা চেক করে নিশ্চিন্ত হতে পারেন। কিছু জেনেটিক পরীক্ষা করে ফেলুন যা হান্টিংটন রোগ, সিকেল সেল অ্যানিমিয়া/ থ্যালাসেমিয়া  এবং কিছু অন্য জেনেটিক ব্যাধিযুক্ত শিশুর সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা তা নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে ।
  8. স্পটিং বা হালকা রক্তক্ষরণ হলে মাসিক এর মতো, তবে শিঘ্রই ডঃ দেখান।
  9. স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে কোয়ালিটি টাইম দিন।।। একদিন পর একদিন এই নিয়ম মেনে সহবাস করুন।


এই সপ্তাহে আপনার জন্য গুরত্বপূর্ণ লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছেঃ

  •  মাসিক চক্রের ট্র্যাক রাখতে হবে।
  • ওভুলেশন বের করা
  • ফার্টাইল উইন্ডো অর্থাৎ আপনার জন্য উপযুক্ত সহবাসের সময় বের করা 
  • ওভুলেশন অনুযায়ী সহবাস করা


গর্ভাস্থার ২য় সপ্তাহে মা এর  জন্য
টিপসঃ

একটি ওভল্যুশন কিট ব্যবহার করুন ।। এটি মোটামুটি নির্ভুল একটি ফলাফল দেয় যাতে আপনি আপনার মা হওয়ার পথ কে ত্বরান্বিত করতে পারেন।।  

আজ এই পর্যন্ত। ধারাবাহিক ভাবে পরের সপ্তাহগুলোর তথ্য পেতে থাকবেন। ভাল লাগলে এবং উপকৃত হলে অন্য মা এর শেয়ার করুন।।

আরও পড়ুনঃ
গর্ভাবতী মা এর অধিক গরম লাগার কারন ও করনীয়
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর রোজায় করনীয়
গর্ভধারণে বিলম্বিত? কোন ভুল করছেন না তো?
গর্ভকালীন ডায়বেটিস এ মা এর করণীয়
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে করনীয়

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন