গর্ভাবস্থার ৩য় সপ্তাহ । সপ্তাহ অনুযায়ী

সপ্তাহ-অনুযায়ী-গর্ভাবস্থা-গর্ভাবস্থার-৩য়-সপ্তাহ

প্রতিটি মা এর জন্য গর্ভাবস্থা আনন্দময়। তবে মুহূর্তগুলো খুব চ্যালেঞ্জিং ।।। আর মা এর গর্ভাবস্থার প্রতিটি স্টেজ সম্পর্কে আপনাদের সহযোগিতা করতে Pawkything.Com এর এই প্রচেষ্ট।। গর্ভাবস্থা একটি আনন্দময় কিন্তু উৎকন্ঠাময় যাত্রা। কখন কি হবে আপনি শত অভিজ্ঞতা থাকলেও দুশ্চিন্তা বোধ করবেন।।
আসুন আজ আমরা জেনে নেই গর্ভাবস্থার ৩য় সপ্তাহ সম্পর্কে।। এই সপ্তাহে আপনাকে গর্ভবতী বলা যায়।

যদি পরিকল্পিত গর্ভধারণ হয় মা সহজেই শরীরের পরিবর্তনগুলো ধরতে পারবেন।। তবে মা কে আর ২-৩ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে নিশ্চিত ফলাফলের জন্য।

ভ্রূন এর বয়স ও বৃদ্ধিঃ
মা এর ডিম্বাণু শুক্রানু দ্বারা মিলিত হওয়ার সাথে সাথে  তা নিষিক্ত হয়। গর্ভাধারন শুরুর তিনদিনের মাঝে তা কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার  মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে ফ্যালোপিয়ান টিউব (Fallopian Tube) দিয়ে তা জরায়ুতে পৌছায়। এরপরেই তা জরায়ুর দেয়ালে বসে পড়ে।। এই পর্যায়ে ভ্রূনের আকার একটি ছোট বলের মতন থাকে যাকে ব্লাস্টোসিস (Blastocyst) বলে।

এই ব্লাস্টোসিসকে কেন্দ্র করে কোষ বিভাজন শুরু হয়েছে, এটির আশে পাশে এমনিয়োটিক ফ্লুইড জমা হওয়া শুরু হয়েছে। এটা পর্যায়ক্রমে এমনিয়োটিক স্যাকে পরিনত হবে। এ একটা পানির থলের মতো, যার ভিতরে শিশুটি বড় হতে থাকবে। এই পর্যায়ে গর্ভাশয়ের এইচ.সি.জি. (Human Chorionic Gonadotropin)  হরমোন উৎপন্ন শুরু হয় এবং এটি ডিম্বাণু থেকে ডিম ছাড়া বন্ধ করে দেয়।।

গর্ভাবস্থার ৩য় সপ্তাহ এ গর্ভফুল (Placenta)  তৈরি হওয়া শুরু করেছে যা গর্ভধারন সময়ের জন্য প্র‍য়োজনীয় হরমোন উৎপাদন শুরু করেছে। এটি এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন বৃদ্ধি করে। ভ্রূনটি এখন এমনিয়োটিক ফ্লুইডের (Amniotic Fluid)  মাঝে বড় হচ্ছে।
ধীরে ধীরে থলিটি আরও পুরু হবে এবং ভিতরের তরল পদার্থ আরও বৃদ্ধি পাবে। এই ফ্লুইড ভ্রুনটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

এই পর্যায়ে ভ্রূণটির তিনটি ‘জার্ম’ বা স্তর থাকে – 

  • এক্টোডার্ম 
  • মেসোডার্ম এবং 
  • এন্ডোডার্ম। 

ত্রিস্তর বিশিষ্ট প্রাণীদের ভ্রূণীয় তিনটি স্তরের মধ্যবর্তী স্তরকে মেসোডার্ম (Mesoderm) বলে। অন্য দুটি স্তরের মধ্যে বাহিরেরটি এক্টোডার্ম (Ectoderm) এবং ভেতরেরটি এন্ডোডার্ম (Endoderm)

👉 এক্টোডার্ম থেকে শিশুর বহিঃত্বক এবং স্নায়ুতন্ত্র গঠন হবে
👉 মেসোডার্ম কঙ্কাল, পেশী এবং হৃৎপিণ্ড গঠনে সহায়তা করবে এবং
👉 এন্ডোডার্ম ফুসফুস এবং অন্যান্য অঙ্গ গঠনে সাহায্য করবে ।

গর্ভাবস্থার তৃতীয় সপ্তাহে মা এর লক্ষনঃ
গর্ভাবস্থার তৃতীয় সপ্তাহে মা কিছু কিছু লক্ষন নিজেই বুঝতে পারবেন। এই সময়ে মা এর লক্ষন গুলো নিচে দেয়া হলঃ

  1. বমি বমি ভাব হওয়া
  2. স্তন স্ফীত হয়ে যাওয়া
  3. ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা অথবা ইউরিন ইনফেকশন সমস্যা দেখা যাওয়া
  4. ব্যাসাল টেম্পেরেচার বৃদ্ধি পাওয়া
  5. অরুচি বা খাবারে অনীহা
  6. দুর্বল বা ক্লান্তি বোধ করা
  7. রক্তক্ষরণ/ব্লিডিং বা স্পটিং হতে পারে। এমনটা হলে আপনার গাইনি ডঃ এর পরামর্শ নিন অবশ্যই।  
  8. তলপেটে হালকা ব্যাথা এবং সাদা স্রাবের (Discharge) নির্গমন বেড়ে যেতে পারে।


গর্ভাবস্থার তৃতীর সপ্তাহে মা এর করনীয়ঃ

পূর্বের ন্যায় মা এই সপ্তাহে ও তার রুটিন অপরিবর্তিত রাখবেন।

  • মাল্টিভিটামিন / pre natal vitamin গ্রহন করা
  • খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা
  • ফলিক এসিড গ্রহন
  • ক্যাফেইন এড়ানো বা অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা 
  • দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতা দূরীকরণের চেস্টা করা।
  • হালকা ব্যায়াম বা ইয়োগা করা
  • পেটে চাপ যেন না পড়ে সেদিকে সজাগ দৃস্টি রাখা

গর্ভবতী মা এর জন্য ধাপে ধাপে আমরা যথেষ্ট নতুন নতুন তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছি।।। ভাল থাকলে অন্য মা এর সাথে শেয়ার করবেন। 

আরও পড়ুনঃ
গর্ভাবতী মা এর অধিক গরম লাগার কারন ও করনীয়
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর রোজায় করনীয়
গর্ভধারণে বিলম্বিত? কোন ভুল করছেন না তো?
গর্ভকালীন ডায়বেটিস এ মা এর করণীয়
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে করনীয়

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন