শিশুর সলিড শুরু করার সঠিক সময়

শিশুর-সলিড-শুরু-করার-সঠিক-সময়

শিশুর সলিড শুরু করার সঠিক সময় নিয়ে অনেক মা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন ।বাচ্চাকে সলিড শুরু করবেন কখন তা অনেক মা ই বুঝতে পারেন না। শিশুর বয়স ৬ মাস হলে শুরু করা যায় কিন্তু দেশের বাইরে অনেক দেশে ৪ মাস থেকে খাবার/ সলিড দেয়া শুরু করে। কিন্তু আমাদের দেশে পেডিয়াট্রিক বা শিশু বিশেষজ্ঞ এরা মতামত দেন ৬ মাস থেকে শুরু করতে। The American Academy of Pediatrics (AAP) এর মতে – শিশুর অবস্থা বুঝে ৪-৬ মাসেই খাবার শুরু করা যায়। শিশুর বয়স ৪ মাস মানে ৪ মাস ১০ দিন অথবা ২০ দিন মানে ৫ মাস এর পথে যখন শিশু তখন খাবার শুরু করা যায়। যেহেতু বাংলাদেশে  ছয় মাসেই খাবার শুরু করা হয় তাই মা বাচ্চার লক্ষণ দেখে খাবার শুরু করবেন। শিশুর সলিড শুরু করা মায়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।

সলিড শুরু করবেন কখন বুঝবেন কিভাবে?

শিশুর সলিড শুরু করার সঠিক সময়

 

শিশু সলিড খাবার জন্য প্রস্তুত বুঝবেন শিশুর কিছু লক্ষন দেখে।  নিচের কিছু ব্যাপার যদি আপনার শিশুর সাথে মিলে যায় তবে আপনি সলিড ট্রাই করতে পারেন।কিন্তু শিশু যদি সলিড গ্রহণে অস্বস্তিবোধ করে বা মা হিসেবে আপনি যদি দেখেন শিশু খেতে অনীহা বোধ করছে তবে তবে আরেকটু সময় অপেক্ষা করতে পারেন।

  • যদি শিশু আপনার খাওয়ায় দেখে মুখ নাড়ায় এবং বার বার আপনার খাবারের দিকে আকর্ষিত হয় সলিড শুরু করতে পারেন
  • সে যদি জিহবা বের করে দেয় এবং বার বার জিহবা দিয়ে চুকচুক করে সলিড শুরু করতে পারেন
  • আপনি আংগুল দিয়ে ওর মুখে কিছু দিতে চাইলে সে মুখে নিতে চাইবে
  • যখন দেখবেন টাং থ্রাসট রিফ্লেক্স (Tongue thrust reflex) ব্যাপারটা আর হচ্ছে না। বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ বা তরল কিছু আংগুলের আগায় করে নিয়ে শিশুর মুখে দিতে পারেন, যদি সে সেটি জিহবা দিয়ে ঠেলে বের না করে দেয় তবে বুঝা যাবে টাং থ্রাস্ট রিফ্লেক্স ব্যাপারটি হচ্ছে না।। এই জিহবা দিয়ে বের না করাই টাং থ্রাস্ট রিফ্লেক্স। তখন সলিড দেয়া শুরু করতে পারেন। 
  • যদি বুকের দুধ আর ফর্মুলা খেয়েও শিশুর ক্ষুধা ভাব থেকে যায় তবে সলিড শুরু করতে পারেন। 

কি দিয়ে শুরু করবেনঃ


সলিড শুরু করা মায়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয়। কি দিয়ে শুরু করতে পারেন? একদম শুরুতে মা একটু তরল জাতীয় খাবার দিতে পারেন। তারপর শুরু করবেন পিউরি।

  1. মিস্টি আলু পিউরি
  2. আপেল পিউরি
  3. কলা
  4. পাকা আম এর রস বা পাল্পঃ এটি রান্নার প্রয়োজন নেই। রস বা পাল্প মিশিয়ে নরম করে শিশুকে দিতে পারেন।
  5. গাজর পিউরি
  6. পরিজ জাতীয় খাবার 
  7. জাউ জাতীয় খাবারঃ ভাত বা পোলাওর চাল নরম করে জাউ বানিয়ে দেয়া যেতে পারে। পোলাউর চাল রেগুলার দেওয়া যাবে না। এতে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হতে পারে।
  8. ডালঃ ডাল কে তরল করে ডালের পানির সাথে ম্যাশ করে নরম ভাত বা জাউ দিতে পারেন। ভাত ও চটকে দিতে পারেন।
  9. সুজিঃ সুজি অনেক চিকিৎসক দিতে না করেন, তবে মাঝে মাঝে দিতে পারেন। অনেক সময় শিশুকে দেয়ার মত  সময় হয় না মায়ের, তখন সুজি দিতে পারেন। সুজি রান্না করার পরেফর্মুলা মিল্ক পরে যোগ করবেন।

লক্ষনীয় বিষয়

শিশুর সলিড শুরু করার সঠিক সময় যদি খাবার শুরু করার পর শিশু যদি খাবারে আগ্রহী হয়ে উঠে এবং খাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা না হয় তবেই শিশুর খাদ্য এ ভিন্নতা আনবেন। আর শিশু যদি খেতে না চায়  বা বমি ভাব করে তবে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা বন্ধ রাখবেন। পরবর্তী সময়ে যেকোনো খাদ্য নরম, পরিপাকযোগ্য ও কম মসলাযুক্ত হতে হবে। খাবার সুস্বাদু হতে হবে। কারণ ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সের মধ্যে শিশুর টেস্ট বাড তৈরি হয় যার সাহায্যে শিশু খাবারের স্বাদ বুঝতে পারে। শুধু মাত্র পরিচয় করানোর জন্য শিশুর খাবার ধীরে ধীরে দিবেন। শুরু করা মানেই নয় শিশুকে নিয়ম করে বাটি ভর্তি করে খেতে হবে।। শিশু না খেলেতখন জোর করে করা যাবে না। মাঝে মাঝে শিশু এক চামচ এর কম খেতে পারে। আপনার শিশু খাবার জন্যই প্রস্তুত কিনা কিংবা তাকে বাইরের খাবারে অভ্যস্ত কিনা তা দেখতেই এই প্রচেষ্টা।মা এর কাজ হচ্ছে শিশুকে অল্প করে শুরু করা। হয়ত কলা চটকে দিলেন বা একটু মিস্টি আলু পিউরি দিলেন। শিশু এক চামচ খেল, হয়তো খেলই না। 6 মাস পার হয়ে গেলে শিশু পুরোপুরি খাবার শুরু করলে রান্নার সঙ্গে খাবার রান্নার সময় অবশ্যই অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার জরুরি কারণ বিভিন্ন খাদ্য থেকে পাওয়া ভিটামিন এ,ডি,ই,কে চর্বি ছাড়া শরীরে শোষিত হতে পারে না। এসব ভিটামিন হলো চর্বিতে দ্রবণীয় যার কারণে কিছু পরিমাণ তেল ব্যবহার করা উচিত। তবে অনেক ডাক্তারই বলেন এক বছরের আগে তেল চিনি লবণ ব্যবহার করতে না। বিভিন্ন ডাক্তারের মতামত এ ভিন্নতা থাকতে পারে। 

👉 শুরুতে চাইলে ড্রপার কিংবা চামুচ বা হাতে একটু চটকে দিতে পারেন। তবে জোর করবেন না। এভাবে প্রথম দিন একবার দিলেন, পরের দিন দুইবার এভাবে বাড়াতে থাকবেন। মায়েরা নিজের সুবিধা মত খাবার দিবেন। একদিন দিলেন মিস্টি আলু, অন্যদিন আম এর রস বা গাজর পিউরি। আবার দিলেন নরম ভাত বা জাউ, ডালের পানি , মুরগি ম্যাশ বা একদম ব্লেন্ড করে নরম খিচুড়ি করে দিলেন।
👉 ব্লেন্ড করা খাবার যে দিবেন না তা নয়। আপনার আগে শুরু করতে হবে। শুরু করলে আস্তে আস্তে ব্লেন্ড করা খাবার থেকে সরে আসবেন। কোন খাবারে যদি শিশুর অ্যালার্জি হয় তবে ওই খাবার বন্ধ রাখতে হবে।
👉 কোন খাবারে যদি পেট ফেপে যায় বা গ্যাস হয় কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তবে লক্ষ্য করে ওই খাবার বন্ধ করে দিবেন
👉 পুরান বা ফ্রিজের খাবার বাচ্চাকে দিবেন না। যেকোন খাবারে  খাবারে দুধের প্রয়োজন হলে ফর্মুলা মিল্ক যোগ করবেন।
👉 ফর্মুলা মিল্ক কিন্তু চুলায় জ্বাল দেয়া যায় না।
👉 শিশুকে কোন খাবারের চাক, ভারি খাবার বা দলা জাতীয় কিছু দিবেন না।। মিহি পেস্ট করে থকথকে কিন্তু পাতলা করে দিবেন।
👉 শিশুকে মিষ্টিজাতীয় অথবা মিষ্টি ছাড়া খাবার দিয়ে দেখবেন শিশু কোনটা পছন্দ করে। তবে সে জাতীয় খাবার শিশুকে দিবেন । ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবার এড করবেন।
এভাবে ধীরে ধীরে শুরু করুন, এক মায়ের সাথে অন্য মায়ের মতামত বা অভিজ্ঞতার ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই ঘাবড়ে যাওয়া যাবেনা। 

 

আরও পড়ুন
নবজাতক এর কিছু সাধারন সমস্যা
আবহাওয়া অনুযায়ী শিশুর পোশাক
শিশুর কৃমি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?
মোবাইল স্ক্রিনিং বা গেজেট আসক্তিতে বাচ্চাদের কিভাবে সামলাবেন?
শিশুরা কেন সব কিছু মুখে দেয় ? সতর্কতা ও করনীয়

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন