গর্ভধারনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ

গর্ভধারনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ

সকল মেয়েরই থাকে মা হবার তিব্র আকাংখা।।  সেজন্য গর্ভধারনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ মেনে চলা উচিত। ইদানিং মা হওয়া খুব সহজ নয়, আবার খুব কঠিন নয়। বিধাতা নারী যখন বানিয়েছেন তেমনি অনেক স্বপ্ন দেখার ইচ্ছা ও সু্যোগ দিয়েছেন। বিজ্ঞানের যুগে  আমরা যেমন অগ্রগতির দিকে অগ্রসর হচ্ছি তেমনি আমরা কিছু ক্ষতিকর দিকে প্রভাবিত হচ্ছি।। তাই মা হওয়া কিছুটা হলেও বাধাঁগ্রস্থ হচ্ছে।

সত্যি বলতে কি মা হওয়ার পথটি ঠিক মিস্টি ঝাল লবনাক্ত। মা হওয়ার আগের পথটুকু ঝাল লবনাক্ত হলেও ফল যখন পাওয়া যায় তখন কিন্তু মিস্টিই লাগে। যারা মা হয়েছেন তারা জানেন নিশ্চয়ই।। মা হওয়ার জন্য আপনার ইচ্ছা,বিধাতার সম্মতি আর  কিছু পদক্ষেপ তো লাগবেই। গর্ভধারণ এর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ মেনে চলা উচিত। 

গর্ভধারনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ :

  •  সর্বপ্রথম আপনার পার্টনার এর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন।
  • আপনারা দুজনেই রাজি কিনা মা বাবার দায়িত্ব নিতে! 
  • এরপর বিবেচনা করে দেখুন আপনি নিজে মানসিক ভাবে প্রস্তুত কিনা। গর্ভধারণ এর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করুন।
  • স্বামী স্ত্রী  রাজি থাকলে আপনারা অবশ্যই একজন গাইনি ডঃ এর শরনাপন্ন হন।
  • থায়রয়েড,ডায়বেটিস,পিসিওস (pcos)রক্তের সংক্রমণ, হেপাটাইটিস বি,প্রেশার বা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত কিনা তা নির্ণয় করে ডঃ এর পরামর্শ অনুযায়ী তারপর চেষ্টা করুন।
  • জিনগত কোন সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে
  • বাবা মায়ের কারো সিস্টিক ফিব্রোসিস, শিকলড কোষ, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদির মত রোগ আছে কিনা তা ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
  • pcos(polycystic ovary syndrome) আছে কিনা দেখতে হবে।
  •  Pcos হতে পারে- 1 .বংশগত কারনে   2.ওভারিতে সিস্ট এর জন্য    3.হরমোন এর ভারসাম্যহীনতার জন্য
  • মায়ের শরীরে কোন সংক্রামক রোগ থাকলে তা গর্ভস্থ শিশুর শরীরেও ছড়িয়ে পড়ার জোর সম্ভাবনা আছে। তাই এক্ষেত্রে সচেতনতার সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • রুবেলা ভাইরাস, চিকেন পক্স,ধনুস্টংকার ইত্যাদির প্রতিষেধক নেওয়া আছে চিকিৎসক এর সাথে পরামর্শ করা উচিত।
  • কোন ভ্যাক্সিন নেয়ার পর ১ মাস অপেক্ষা করা উত্তম।
  • জরায়ুমুখে কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য প্যাপ টেস্ট করে রাখতে পারেন।
  • তলপেটের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করুন।।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • গুড টাইমিং সবার হয় না।।কারো একবারের চেষ্টাতে কন্সিভ হয়ে যায় আবার কারো অনেক সময় লাগে
  • ভারি ব্যায়াম বা পেটের ভারি কাজ বাচ্চার জন্যে চেস্টাকালে বিরত রাখুন।
  • ফলিক এসিড বা প্রয়োজনীয় ওষুধ ডঃ এর পরামর্শ অনুযায়ী নিন।
  • ওভুলেশন বুঝে সহবাস থেকে করুন।অবশ্যই ভাল মুডে সহবাস করুন। দরকার পড়লে ওভুলেশন কিট পাওয়া যায় তা ব্যবহার করুন।
  • যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তারা অনায়াসে বুঝতে পারবেন কখন আপনার ওভুলেশন হচ্ছে।
  • যেমন যে সময় ওভুলেশন হয় তখন অতিরিক্ত গরম লাগে, তাপমাত্রা বাড়ে শরীরের।সাদা স্রাব যায়, ক্রেভিংস হয় শারীরিক চাহিদার।ওই সময়টা পারফেক্ট সময় ওভুলেশন এর।
  • মাসিকের ১০-২০ দিনের মাঝে গর্ভধারণ করার খুবই উপযুক্ত সময়।  
  • হতাশ হবেন না।মানসিক চাপ গর্ভধারণ এ বাধাঁ দেয়। হতাশ হওয়া যাবেনা। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন সৃজনশীল কাজে।
  •  জন্মনিরোধক পদ্ধতি অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন

সর্বশেষ নিজেকে সব কিছুর জন্য প্রস্তুত রাখবেন।।আপনার জন্য যা মংগল তাই হবে। আমি আপনি শুধু চেস্টা করে যেতে পারি। অনেক কিছুই মানুষের নিজের হাতে থাকে না এটা মেনে নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ
গর্ভাবতী মা এর অধিক গরম লাগার কারন ও করনীয়
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর রোজায় করনীয়
গর্ভধারণে বিলম্বিত? কোন ভুল করছেন না তো?
গর্ভকালীন ডায়বেটিস এ মা এর করণীয়
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে করনীয়
নবজাতক এর কিছু সাধারন সমস্যা
আবহাওয়া অনুযায়ী শিশুর পোশাক
শিশুর কৃমি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন

Share via
error: Alert: PawkyThings.com এর লেখা ও ছবি কপি করা নিষেধ!
Send this to a friend