গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহ । সপ্তাহ অনুযায়ী

গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহঃ

গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহ এ মা এর শারীরিক অবস্থা, শিশুর বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সপ্তাহভেদে গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থার প্রতিটি সপ্তাহ সম্পর্কে Pawkythings.com এর আয়োজন।

সপ্তাহভেদে গর্ভাবস্থার আজকের আর্টিকেলে থাকছে

  • ভ্রুন এর অবস্থা ও বৃদ্ধি
  • গর্ভাবস্থার ১০ম সপ্তাহে মায়ের শারিরীক অবস্থা
  • ১০ম সপ্তাহে মা কি করবেন
  • গর্ভাবস্থায় কি এড়িয়ে চলবেন
  • ১০ম সপ্তাহে মায়ের ডায়েট
  • সতর্কতা
  • বাবার জন্য টিপস
দশম সপ্তাহে গর্ভস্থ শিশু দেখতে কেমনঃ

এই সপ্তাহে আপনার শিশুর সাইজ একটি খেঁজুর কিংবা প্রুন এর এর মত।

কত ট্রাইমেস্টারঃ

গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহ মানে এখনো প্রথম ট্রাইমিস্টার এ আছেন মা। তবে দ্রুতই আপনার প্রথম ট্রাইমেস্টার শেষ হয়ে যাবে।

কত মাসঃ 

গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহ অর্থাৎ আপনি এখন ৩ মাসে প্রবেশ করেছেন। অর্থাৎ দশম সপ্তাহ মানে এখন আপনার দশ মাস দশ দিন। আপনার শিশুকে কোলে নিতে আর মাত্র ৬ মাস বাকি। 

ভ্রূন এর উন্নয়নঃ 

সপ্তাহভেদে গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহে ভ্রূন এর দৈর্ঘ্য থাকে ১. ২০-৩০ ইঞ্চি। (৩.৫-৪ সেন্টিমিটার )। ওজনে এখন ভ্রূনটি. ১৪ আউন্স এর মত যা কিনা ৪-৪.৫ গ্রাম এর মত। 

 

ভ্রূন এর বৃদ্ধি ও গঠন প্রক্রিয়াঃ

সপ্তাহ ভেদে গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহে ভ্রূন এর উন্নয়ন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে। ভ্রুন এর এমব্রো হিসেবে এটিই শেষ সপ্তাহ।

  • গর্ভাবস্থার নবম সপ্তাহেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্গান গঠন হয়ে গিয়েছে। দশম সপ্তাহে ভ্রূন এর গুরুত্বপূর্ণ শরীরের অংশ গঠন পরিপক্ক হচ্ছে।
  • ভ্রূন এর চোখ, মুখ- মন্ডল, চোখ গঠন উন্নয়ন প্রক্রিয়ামান।
  • ভ্রূন এর চোখের পাতা গঠন হয়ে গিয়েছে কিন্তু ২৭ তম সপ্তাহ পর্যন্ত তা চোখ কে ঢেকে রাখে।
  • কান এর বাইরের অংশ গঠন চলমান এবং তা মাথার দুই পার্শ্ববর্তী স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। 
  • ভ্রূন এর কাধঁ ও গঠন হয়ে গিয়েছে। ভ্রূনের কাঁধ অনেকটা বেঁকে আছে কনুই এর দিকে। অনেক টা মানুষের আকৃতি চলে এসেছে অনাগত শিশু।
  • গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহে হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত গতিতে হবে কেননা রক্ত সঞ্চালন করছে ভ্রূন।
  • সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্তার দশ্ম সপ্তাহে এসে ভ্রূন এর ছোট্ট পাকস্থলী পরিপাকের জন্য রস উৎপন্ন করছে এবং কিডনি মূত্র উৎপন্ন করা শুরু করেছে। ভ্রূনটি যদি ছেলে হয়ে থাকে তবে তা টেস্টোস্টেরন উৎপন্ন শুরু করে দিয়েছে। 
  • ভ্রূন এর দুধ দাতঁ গঠন শুরু হয়ে যায় যা মাড়ির সাথে শক্ত হয়ে যুক্ত হবে ধীরে ধীরে। কিন্তু শিশু জন্মের সাথে সাথে শিশুর মাড়িতে এই দাতঁ থাকবে না।। শিশু জন্মানোর ৬ মাস থেকে দাতঁ বের হওয়া শুরু হয়।

 

গর্ভাবস্থার ১০ম সপ্তাহে মায়ের শারিরীক অবস্থাঃ 

 

গর্ভাবস্থায় শুরুর দিকে একেক মায়ের  শারিরীক অবস্থা একেক রকম থাকে।

 

স্তনের পরিবর্তনঃ

সপ্তাহ অনুযায়ী দশম সপ্তাহে স্তনের পরিবর্তন হয়ে থাকে। কারো স্তন স্ফীত হয়ে যায়, হয়তো বা কারো স্তন ভারী অনুভূত হয়। এটি একদম ই স্বাভাবিক। গর্ভবতী মায়ের শরীরে রক্তের পরিমান বেড়ে যায় তাই স্তন এর শিরা গুলো আর ও স্পষ্ট হয়ে উঠে। 

 

ওজনের বৃদ্ধিঃ

গর্ভাবস্থার  দশম সপ্তাহে একজন মা এর ওজন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। আপনি যদি এখনো কাউকে না জানান আপনি গর্ভবতী তবে আর কয়েকদিন পর জানিয়ে দিতে হবে। কেননা ওজন কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু মা এর ওজন কমতে পারে। যাদের টুইন বাচ্চা তাদের ওজন এক্টু বেশিই বাড়তে পারে। তবে পূূর্ববর্তী মা হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে আপনার পেট এর পেশি প্রসারিত হয়ে থাকে তাই আপনার পেট এখনই বড় হয়ে যেতে পারে।

 

পেট ব্যাথাঃ

গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যথা কিংবা  খিঁচ দেয়া স্বাভাবিক ঘটনা৷ আপনার গর্ভের শিশুকে ক্রমশ বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে আপনার শরীরে পরিবর্তন ঘটছে এবং বাড়ন্ত শিশুকে জায়গা করে দিতে আপনার জরায়ু প্রসারিত হচ্ছে৷ এর কারনে পেটে ব্যাথা হতে পারে।  এ  সময় বার বার প্রস্রাব হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাব এর সময় এই পেটে ব্যাথা হতে পারে। চিকিৎসক এর শরনাপন্ন হতে হবে যদি অতিরিক্ত ব্যথা, প্রস্রাবে জালাপোড়া হয় কিংবা জ্বর আসে ব্যাথার সাথে।

 

ক্লান্তি ভাব ও বমি হওয়াঃ

গর্ভাবস্থার নবম সপ্তাহের মত দশম সপ্তাহে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্লান্তিভাব ও বমি হওয়া অতি স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাভাবিক দেখে যে সব সমস্যা একদম স্বাভাবিক নেয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি অতিরিক্ত বমি করে থাকেন তবে চিকিৎসক আপনাকে নিরাপদ ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করবেন। ক্লান্তি ভাব বোধ করতে অবশ্যই বিশ্রাম করুন। গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস (১ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত) মা ও শিশু উভয়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে মায়ের বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। তাই এই সময়টাতে মায়ের বেশি যত্ন প্রয়োজন। 

 

ঘুমের সমস্যাঃ

গর্ভাবস্থায় মায়ের ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে।  এসময় মায়েরা নিদ্রাহীনতায় ভোগেন। অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেন। এ নিয়ে ভয়ের কারন নেই। অস্থির মস্তিষ্ক এই ধরনের স্বপ্ন দেখায় কেননা মায়েরা এই সময় অনেক দুঃশ্চিন্তায় থাকেন। তাই ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে শুয়ে পুড়ুন। দিনের বেলা হালকা মুভমেন্ট করুন।।গর্ভাবস্থায় মায়ের আহার এবং বিশ্রাম নির্দিষ্ট সময়ে আনুন। এতে শরীর ও প্রস্তুত হয়ে পড়বে।

 

রক্তপাত কিংবা ব্লিডিংঃ

গর্ভাবস্থার  দশম সপ্তাহে কিছু মায়ের ব্লিডিং বা রক্তপাত হতে পারে। কারো ক্ষেত্রে এটি নরমাল। মেডিসিনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এটি অতিক্রম করা সম্ভব। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এটি গর্ভপাত বা এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষন। তাই হেলা করবেন না কোন ক্ষুদ্র সমস্যাকে। গর্ভের সমস্যা, ভ্রূণ ঠিকমতো না বাড়লে, গর্ভস্থ ভ্রূণ সংক্রমণের শিকার হলে বা মায়ের কোনো অসুখের কারণে  গর্ভপাত হতে পারে। এটি এড়ানোর জন্য হবু মায়ের কোনো কিছু করণীয় নেই। 

 

সপ্তাহভেদে গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহে মায়ের করণীয় 

 

  • প্রিন্যাটাল ভিটামিন গ্রহন করবেন
  • চিকিৎসক এর পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ গ্রহন করবেন না
  • ডায়বেটিস এবং রক্তচাপ পরিক্ষা করুন।

    গর্ভাবস্থায় কি এড়িয়ে চলবেন
  • ঝুঁকিপূর্ন পরিবেশ এভোয়েড করুন।
  • ভারী জিনিসপত্র তুলবেন না
  • ব্যায়াম আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজন কিনা আপনার চিকিৎসক এর কাছে জেনে নিন।
  • এলার্জির প্রকোপ থাকলে এলার্জি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রথম তিনমাস সহবাস এড়িয়ে চলুন।
  • আপনি যদি ৩৫ বছরের বেশি হয়ে থাকেন তবে আরও কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে আপনাকে। এজন্য pawkythings.com এর নবম সপ্তাহ আর্টিকেলটি পড়ে নিবেন।

    ১০ম সপ্তাহে মায়ের ডায়েট

  • পানি পান করুন। আরামদায়ক পোশাক পড়ুন।
  • সবুজ শাক সবজি ও ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহন করুন।
  • ক্যালিয়াম সমৃদ্ধ এবং দুগ্ধজাত খাবার৷ এতে আছে দুধ, দুধের তৈরী খাবার, ছানা, দই, ছোলা এবং দই।
  • প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করা উচিত।যেগুলোতে প্রোটিন আছে ডিম, বীন, ডাল, মুরগি, মাছ এবং মাংস৷ 
  • এছাড়াও ক্যালিয়াম সমৃদ্ধ এবং দুগ্ধজাত খাবার ডায়েট এ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।এতে আছে দুধ, দুধের তৈরী খাবার, ছানা, দই, ছোলা এবং দই।

 

বাবার জন্য টিপসঃ

 

 


গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের সবচেয়ে বড় তার স্বামী।  তাই স্বামী হিসেবে হবু বাবা তার স্ত্রীর প্রতি লক্ষ্যশীল হবেন। মুড সুইং কিংবা স্ত্রীর সমস্যাগুলো পজিটিভ ভাবে নিবেন। আপনি সহোযোগিতা করলে আপনার স্ত্রীর মা হওয়ার যাত্রা অনেক সহজ হবে। হবু মা এর প্রয়োজন অনুবাদ  চিকিৎসক এর শরনাপন্ন হন।। এই সময়ে মায়ের
প্রতি সংবেদনশীল হন এবং নমনীয় হন। গর্ভাবস্থায় একজন নারী তার স্বামীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা, ভালোবাসা ও যত্ন সবচেয়ে বেশি আশা করেন। 

আরও পড়ুনঃ
গর্ভাবতী মা এর অধিক গরম লাগার কারন ও করনীয়
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর রোজায় করনীয়
গর্ভধারণে বিলম্বিত? কোন ভুল করছেন না তো?
গর্ভকালীন ডায়বেটিস এ মা এর করণীয়
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে করনীয়
নবজাতক এর কিছু সাধারন সমস্যা
আবহাওয়া অনুযায়ী শিশুর পোশাক
শিশুর কৃমি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন