রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেক ।রোগ প্রতিরোধ করতে যুগে যুগে ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক ঘরোয়া খাবার ও মানুষের ইমিউনিটি বাড়াতে কাজ করেছে। যেকোনো রোগ প্রতিরোধে প্রাকৃতিক খাবার গুরুত্বপূর্ণ পালন করছে। এর মাঝে লেবুর উপকারিতাঅনেক।  বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস এক আতঙ্কের নাম। করনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ বিভিন্ন কৌশল এপ্লাই করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কোন ভাইরাস থেকে আরোগ্য পেতে সাইট্রিক এসিড ও ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক।

লেবু ভিটামিন সি সাইট্রিক এসিড এ ভরপুর। লেবুর রসে রয়েছে B₂,B₃,B₅,Fe, K, Zn, প্রোটিন, ভিটামিন সি, রিবোফ্লোবিন, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস।  লেবু একটি অর্গানিক এসিড এর রাসায়নিক নাম হল CHOY। 

১০০ গ্রাম লেবুর রসের পুষ্টি উপাদান

১০০ গ্রাম লেবুতে কি পরিমান পুষ্টিগুন থাকে তা আমরা নিচের চার্ট থেকে দেখে নিব:
পুষ্টিপুষ্টিমুল্য
শক্তি৪৮ কিলো ক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট৯.৩২ গ্রাম
প্রোটিন ১.১০ গ্রাম
কোলেষ্টেরল০০ গ্রাম
মোট আঁশ২.৮০ গ্রাম
ফোলিয়েট১১ মাইক্রো গ্রাম
নিয়ামিন১৫ মাইক্রো গ্রাম রেটিনল সমতুল্য
প্যানথোটিক এসিড.১৯০ মাইক্রো গ্রাম
পাইরিডক্সিন.০৪০ মাইক্রো গ্রাম
ক্যালসিয়াম০৫ মিঃগ্রাঃ
লৌহ০.৭ মিঃগ্রাঃ

 

লেবুর উপকারিতাঃ-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক। আসুন আজকে জেনে নেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতাঃ

  • লেবুর উপকারিতা অনেক। লেবুর রস যে কোন ভাইরাস জনিত সংক্রমন রোধে কাজ করে থাকে। আর সংক্রমন হয়ে যদি যায় তবে আরোগ্য লাভে দ্রুত কাজ করে।
  • লেবুর রস ফুসফুসের জন্য অনেক ভালো কাজ করে থাকে। করনা ভাইরাস এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেখা যায় ফুসফুস আক্রান্ত হয়। লেবু বিষাক্ত দ্রব্য বের করে দেয় আমাদের শরীর থেকে। ফলে দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে সাইট্রিক জাতীয় এই ফল। তাই বলা যায় লেবুর উপকারিতা অনেক।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক।লেবুর রসে যথেষ্ট পরিমান পটাশিয়াম রয়েছে যা হাইপারটেনশন কমাতে সহায়তা করে। 
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক। যাদের হালকা শ্বাসকষ্ট আছে, তারা নিয়ম করে খাবারের আগে এক চামচ লেবুর রস খেতে পারেন। যারা মাইল্ড অ্যাজমায় ভুগছেন, লেবুর রস তাদের জন্য ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা

 

  • লেবুর রস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধে কাজ করে থাকে। গলা ব্যথা হয়ে থাকলে অথবা মুখে ঘা কিংবা টনসিলের যেকোনো সমস্যায় অনেক সময় ডাক্তাররা লেবুর রস প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন অপারেশন হওয়ার পরে চিকিৎসকেরা ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
  • মানব দেহে ক্ষত সারাতে লেবুর রসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কাটা স্থান বা সেলাই শুকাতে লেবুর রস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নারীদের প্রসব যদি সিজারিয়ান সেকশন এর মাধ্যমে হয় তবে লেবু খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসক। 
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক।মাড়ির ব্যথা মাড়ি ফোলা কিংবা দাঁতের ব্যথা রোধে লেবু ভালোই কাজ করে
  • কোষ্টকাঠিন্য রোধে লেবু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্ত্রের পরিপাক প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে এবং বাউল সিস্টেম ঠিক রাখতে লেবুর রস কার্যকরী উপায়ে কাজ করে থাকে।
  • আমাদের শরীর অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন পরজীবী জীবাণু কিংবা কৃমি দ্বারা আমাদের শরীর আক্রান্ত হয়ে থাকে। ওষুধের পাশাপাশি এ লেবুর ঘরোয়া ব্যবহারে কৃমি দূর হয়। তাই বলা যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক।
  • প্রাত্যহিক খাবার তালিকায় পুষ্টিকর খাবার এর সাথে লেবু যোগ করে আমরা বিভিন্ন রোগ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি। ক্যান্সারের ভয়াবহ রোগ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং লেবু যোগ করা খুবই কার্যকরী উপায়।
  • শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এবং লিপিডের মাত্রা কমিয়ে শরীরকে ভালো রাখে এই সাইট্রিক জাতীয় লেবু।
  • মূত্রনালী ইনফেকশন কমায় লেবুর রস। অনেক সময় দেখা যায় যে গর্ভাবস্থায় কিংবা শিশুদের অথবা যেকোনো বয়সের মানুষেরই ইউনারি ইনফেকশন দেখা যায়৷ ইউরিন ইনফেকশন থেকে মুক্তি পেতে।তরল জাতীয় খাবারের সাথে সাথে লেবুর রস প্রচুর পরিমাণে পান করুন।
  • অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে গর্ভবতী কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের পানি খেতে পানি খাওয়ার কিছু অসুবিধা হয় তখন স্বাভাবিক , গরম কিংবা ঠান্ডা পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে তাদের জন্য সহজ হয়ে থাকে। তাই বলা যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক।
  • কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে অনেকটা ডিহাইড্রেশনের কারণে তাই বলা যায় লেবুর শরবত কিডনিকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে আর দেখা যায় যে কিডনির পাথর দূরীকরণে লেবুর রসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনেকে । এছাড়া লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক  এসিড কিডনিতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট নামক পাথর গঠনে বাধা দেয় । কিডনির পাথর গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর রস যেমন উপকারী তেমনি রং চা বানাতে লেবুর রস  সহযোগে রং চা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী
  • ত্বকের যত্নে কাজ করে লেবু।।লেবুর রস প্রাকিতিক আ্যন্টি সেপটিক যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দূর করে ব্রণ সারিয়ে তোলে।ত্বকের রং উজ্জ্বল কে বয়সের বলিরেখা দূর করে। টান টান ভাব এনে দেয় লেবু রস।
  • বমি ভাব বা অরুচিকর পরিস্থিতি এড়াতে লেবু ভাল কাজ করে 
  • তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পরে লেবু কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে। খাবার সহজে হজম হয়। তাই বলা যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা অনেক।
  • ওজন কমাতে লেবুর জুড়ি নেই। কুসুম গরম পানির সাথে লেবু মধু যোগ করে পান করলে ওজন কমানোর ভাল প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। 
  • লেবু দিয়ে নখ পলিশ করলে নখ তার বিবর্ণতা থেকে উজ্জ্বল রং ফিরে পায়। আবার মাছ কেটে বা গন্ধযুক্ত কিছু ধরলে লেবুর রস দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললে গন্ধ চলে যায়।
  • লেবুর খোসা ও কিন্তু কম উপকারী নয় লেবুর খোসার মধ্যে রয়েছে নিউট্রিয়েন্টস। লেবুর রসে তো বটেই লেবুর খোসায় রয়েছে ভিটামিন । এ ছাড়া লেবু কুচি করে বিভিন্ন খাবারের যোগ করলে খাবার সুস্বাদু হয়।

 

লেবুর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ

লেবুর উপকারিতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতা

 

  1. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর উপকারিতার পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে তাদের অতিরিক্ত লেবু খেলে বুক জ্বালা করে। তাই লেবু পানির সাথে একটু লবনযোগ করে খেলে গ্যাস থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়।
  2. অনেক সময় নারীদের পিরিয়ড  চলা কালে লেবু বা টক জাতীয় ফল খেলে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়
  3. ওজন কমানোর ডায়েট চলমান থাকলে কম পরিমানে কার্বোহাইড্রেট গ্রহনের ফলে অন্যান্য পুষ্টিগুণের অভাব দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে লেবুপানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে পেট ফাঁপাসহ নানান ধরনের সমস্যা ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
  4. অতিরিক্ত লেবু ও লেবুর শরবত পানের ফলে পেটে ও তলপেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যেকোনো মানুষের পরিমিত লেবু খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।
  5. অতিরিক্ত লেবুর শরবত পানে যাদের মাইগ্রেন আছে, তাদের মাইগ্রেন এর সমস্যা বাড়তে পারে।
  6. ব্যক্তিভেদে লেবু পানি অতিরিক্ত পরিমানে পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ তাই পরিমিত লেবু খাবেন।( সূত্রঃstylecraze.com))
  7. অতিরিক্ত লেবুর শরবত পানে অনেক সময় দাতঁ এর এনামেল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই লক্ষ্য রাখবেন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়
আরও পড়ুনঃ
গর্ভাবতী মা এর অধিক গরম লাগার কারন ও করনীয়
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এর রোজায় করনীয়
গর্ভধারণে বিলম্বিত? কোন ভুল করছেন না তো?
গর্ভকালীন ডায়বেটিস এ মা এর করণীয়
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে করনীয়
নবজাতক এর কিছু সাধারন সমস্যা
আবহাওয়া অনুযায়ী শিশুর পোশাক
শিশুর কৃমি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

সম্পর্কিতপোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন বা প্রশ্ন করুন ?

অনুসরণ করুন

Share via
error: Alert: PawkyThings.com এর লেখা ও ছবি কপি করা নিষেধ!
Send this to a friend